Header Ads Widget

Hadi24.com - আপনার হারনো বা প্রাপ্তির সংবাদ -জানান বা জানুন
BDData.org - বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংবাদ ও তথ্য

পাকিস্তান এর জন্মদাতারাঃ শিয়া আন্দোলন

 যারা খুব পাকিস্তান প্রেমিক । এবং  মনে করেন এই সব মুসলিম দেশের নেতারা আমাদের ত্রাতা তাদের জন্য আমার নিচের কিছু তথ্যঃ

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা 'মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ' - পারসি অগ্নি উপাসক থেকে ইসমাইলি

উনি রাজনীতিতে প্রবেশ এর পর মুসলিম হন। Don't laugh. I m serious. উনাদের পারিবারিক ধর্ম 'ইসমাইলিয়া'। এটা হচ্ছে 'জরাথ্রুস্ট (অগ্নিউপাসক) +ইহুদী+ পারসি+ইসলাম' ধর্মের সংমিশ্রনে তৈরি একটি মতবাদ। ক্রসেড এর সময় এরা খুব পপুলার হয়। এবং খ্রিস্টান-ইহুদী বাহিনীর সহয়তায় ইরানের বিশাল এলাকা দখল করে। জিন্নাহর স্ত্রী আজীবন অমুসলিম ই ছিল।
 
জিন্নাহ পরিবার ছিল অগ্নি উপাসক বা মাজুসি বা পারসি। ইসলামের বিজয়ের পর এরা পারস্য বা ইরান সম্রাজ্য ছেড়ে ভারতের নানা শহরে ছড়িয়ে পড়েন। যেখানে ইসলাম থেকে উনারা অনেক দূরে ছিলেন। অথবা ইসলাম যেখানে গৌণ ছিল। জিন্নাহ পরিবার স্থায়ী হয় সুরাট শহর কেন্দ্রিক গুজরাটে।

উনি ও উনার পিতা মুসলিম লীগে যোগ দেয়ার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আসলে সেটা ইসলাম নয় বরং -ইসমাইলি শিয়া ধর্ম ছিল। যারা ইতিহাসে অনেক নামে পরিচিত। যেমনঃ কারামতি।  ইসমাইলিদের মূল ধারার শিয়ারাও অমুসলিম মনে করে। এরা অনেকটা খ্রিস্টান ও ইহুদীদের কাছাকাছি। আরবে তাদের কারামাতি নামে চিনে। যাই হোক তার স্ত্রী, কন্যা ভাই কেওই ইসলাম গ্রহণ করেনি, এমনকি ইসমাইলি ধর্মও না। কেওই পাকিস্তানে যায় নি। মানে উনার পরিবারের জীবিত সবাই এখনও অগ্নি উপাসক।

পরিবারঃ 

  • স্ত্রীঃ রত্নাবাই বিখ্যাত পারসি(অগ্নিউপাসক জরাথ্রুস্ট ধর্মের অনুসারী) পরিবারের কন্যা। যারা কিনা দুনিয়া বিখ্যাত টাটা ও গোদরেজ কোম্পানি এই পরিবারেরই। যাদের মূল ইরানের রাজকীয় পরিবার।
  • কন্যা (একমাত্র সন্তান): ডিনা ওয়াডি স্বামী  নেভিল্লি ওয়াডি বিখ্যাত পারসি(অগ্নিউপাসক জরাথ্রুস্ট ধর্মের অনুসারী) সন্তান। পাকিস্তান মুসলিম প্রধান হওয়ায় ইনি পাকিস্তানে আর আসেননি। তবে তার পিতা এই বিয়েতে মত দেননি। 
  • বোনঃ ফাতিমা জিন্নাহঃ জমাত ইসলাম(আবুল আলা মওদুদি) ও ফাতিমা জিন্নাহ মিলে আইয়ুব খানের বিরুদ্বে নির্বাচন করে হেরে যায়।
https://en.wikipedia.org/wiki/Zoroastrianism#Modern
https://en.wikipedia.org/wiki/Wadia_family
https://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad_Ali_Jinnah
https://en.wikipedia.org/wiki/Parsi
https://en.wikipedia.org/wiki/Rattanbai_Petit
https://en.wikipedia.org/wiki/Dina_Wadia

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় কারামতি বা ইসমাইলি ধর্মের অবদান

পাকিস্তান আন্দোলনে এবং দেশটির প্রারম্ভিক ইতিহাস গঠনে ইসমাইলি শিয়া সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে আগা খানের অনুসারী নিজারি ইসমাইলি এবং দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের) ব্যক্তিত্বরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজে একজন শিয়া পরিবারের সন্তান ছিলেন (যদিও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল অসাম্প্রদায়িক মুসলিম পরিচয়), তবে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তানের জন্মলগ্নে বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন একনিষ্ঠ ইসমাইলি শিয়া।

নিচে পাকিস্তানের সেই সমস্ত প্রভাবশালী ইসমাইলি শিয়া প্রতিষ্ঠাতাদের তালিকা এবং সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হলো:

১. স্যার সুলতান মুহাম্মদ শাহ, আগা খান তৃতীয় (Sir Sultan Muhammad Shah, Aga Khan III)

পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে আল্লামা ইকবাল ও জিন্নাহর পাশাপাশি আগা খান তৃতীয়-এর নাম অন্যতম প্রধান হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী নিজারি ইসমাইলি শিয়া মুসলমানদের ৪৮তম ইমাম।

  • ভূমিকা ও অবদান: ১৯০৬ সালে ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে যখন নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (All India Muslim League) প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সর্বসম্মতিক্রমে স্যার আগা খানকে দলটির প্রথম স্থায়ী সভাপতি (President) নির্বাচিত করা হয়। ১৯০৬ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: ১৯০৬ সালের বিখ্যাত 'শিমলা ডেপুটেশন'-এর নেতৃত্ব দেন তিনি, যেখানে ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর কাছে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি জানানো হয়—যা পাকিস্তান আন্দোলনের প্রথম রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর একক আর্থিক ও নেতৃত্বমূলক অবদান ছিল অনন্য।

২. স্যার গোলাম হোসেন হেদায়াতুল্লাহ (Sir Ghulam Hussain Hidayatullah)

স্যার গোলাম হোসেন হেদায়াতুল্লাহ ছিলেন সিন্ধু প্রদেশের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা এবং পাকিস্তানের অন্যতম অগ্রগামী প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসমাইলি শিয়া পরিবারের সন্তান ছিলেন।

  • ভূমিকা ও অবদান: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে ও পরে তিনি সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিন্নাহর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এই নেতা সিন্ধু অঞ্চলে মুসলিম লীগের ভিত শক্ত করেছিলেন।

  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ নেন এবং তিনি নিজে স্যার গোলাম হোসেন হেদায়াতুল্লাহকে সিন্ধু প্রদেশের প্রথম পাকিস্তানি গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১৯৪৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে সমাসীন ছিলেন।

৩. লেডি নুসরাত হারুন (Lady Nusrat Haroon)

পাকিস্তানের নারী জাগরণ এবং পাকিস্তান আন্দোলনে নারীদের সংগঠিত করার পেছনে লেডি নুসরাত হারুন (মূল নাম নুসরাত খানম) ছিলেন এক অন্যতম স্তম্ভ। তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত ইসমাইলি শিয়া পরিবারের সদস্য ছিলেন।

  • ভূমিকা ও অবদান: তিনি ছিলেন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্যার আবদুল্লাহ হারুনের স্ত্রী। ১৯৩৮ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মহিলা উপ-কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: সিন্ধু প্রদেশে নারী সমাজকে শিক্ষিত করা এবং তাদের পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে ঘর থেকে বের করে আনার মূল কৃতিত্ব তাঁর। করাচিতে তাঁর বাসস্থান 'নাজাত মহল' ছিল সিন্ধুর মুসলিম লীগ নেতাদের প্রধান মিলনমেলা। জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহর তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন।

৪. হাশিম গাজদার (Muhammad Hashim Gazdar)

হাশিম গাজদার ছিলেন পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন সভার (Constituent Assembly) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সিন্ধু প্রদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি দাউদি বোহরা (ইসমাইলি শিয়াদের একটি শাখা) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

  • ভূমিকা ও অবদান: তিনি করাচির মেয়র এবং সিন্ধু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব (পাকিস্তান প্রস্তাব) পাসের সময় তিনি সিন্ধু প্রদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন।

  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর তিনি দেশটির প্রথম আইনসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

৫. হাবিব ইব্রাহিম রহমতুল্লাহ (Habib Ibrahim Rahimtoola)

হাবিব ইব্রাহিম রহমতুল্লাহ ছিলেন জিন্নাহর ঘনিষ্ঠ তরুণ সহযোগী এবং পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠাতা। তিনিও খোজা ইসমাইলি বা বোহরা ধারার শিয়া পরিবারের সদস্য ছিলেন।

  • ভূমিকা ও অবদান: পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম অর্থদাতা এই ব্যক্তিত্ব দেশভাগের ঠিক পর পরই পাকিস্তানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সচল করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন।

  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: ১৯৪৭ সালের আগস্টে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানের প্রথম হাইকমিশনার (Ambassador) হিসেবে নিযুক্ত করেন। লন্ডনে পাকিস্তানি দূতাবাস খোলার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদ্য জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের স্বীকৃতি আদায়ের কঠিন কাজটি তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সিন্ধু ও পাঞ্জাবের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

৬) জুলফিকার আলী ভূট্টো

পাকিস্তানের ত্রাতা ও মডারেট মুসলিম দলগুলার প্রিয় নেতা। ইনিও একজন শিয়া। এছাড়াও বেনজির ভূট্টো, বিলওয়াল ভুট্টো। মূলত হিন্দু জাঠ থেকে ইসমাইলি/শিয়া ধর্ম গ্রহণ করে এই পরিবার। 

https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Pakistani_Shia_Muslims
https://en.wikipedia.org/wiki/Nusrat_Bhutto

৭)  জেনারেল ইস্কান্দার মির্জাঃ শিয়া।

৮) জেনারেল আগা মোহাম্মদ 'ইয়াহিয়া' খানঃ এনার পারিবারিক ধর্ম 'ইসমাইলিয়া'

পারস্যের রাজকীয় বংশসূত্র: ইয়াহিয়া খানের পরিবার মূলত পারস্যের (বর্তমান ইরান) একটি অভিজাত শিয়া মুসলিম বংশের বংশধর ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন ইরানের বিখ্যাত আফশারিদ (Afsharid) রাজবংশের অংশ, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পারস্যের বিখ্যাত সম্রাট নাদির শাহ।
ভারতে আগমন: অষ্টাদশ শতকে নাদির শাহের ভারত আক্রমণের সময় বা তার কিছু পরে তাঁর পূর্বপুরুষদের একটি শাখা ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে চলে আসে এবং পেশোয়ারে (বর্তমান পাকিস্তান) স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

৯) প্রিন্স আগা খানঃ আগা খান ফাউন্ডেশন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ইনি ইসমাইলী ধর্মের বর্তমান ইমাম/নবী। এই ইসমাইলিয়ারা নিজেদের মুসলিম দাবী করলেও এর কাদিয়ানীদের মতই ভিন্ন একটি ধর্ম। এদের কিতাব যদিও কুরআন কিন্তু তা পরিবর্তনশীল। এবং এদের ধর্মে প্রায় সমস্তই হালাল যা ইসলামে হারাম। যেমনঃ জিনা/অবৈদ সেক্স, মদ, ভিন্নধর্মী বিবাহ, সুদ।
AGA KHAN FAMILY
 https://goo.gl/images/1XXm5R 

১০) বেনজির ভুট্টো /আসিফ আলী জারদারী: শিয়া ধর্মের অনুসারী।

Asif Ali with Benjir

বেনজিরের মাজারে স্বামী আসিফ আলী


https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Pakistani_Shia_Muslim

১১) আল্লামা ইকবাল

এই তথাকথিত ও আলেম সমাজের নয়ন মনি ইসলামের অহংকার "মোহাম্মদ ইকবাল" জীবনের শুরুতে "কাদীয়ানী মতবাদ" গ্রহন করেন (১৮৯৭ সালে সম্ভবত)। অবশ্য শেষ জীবনে পাকিস্তানে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হলে উনি নিজেকে মুসলিম দাবী করেন এবং ইসলামের অনেক কবিতা লিখেন। অবশ্য এই ব্যাপারে গবেষণা দাবী রাখে।  কারন এটি বিতর্কিত একটি বিষয়।
https://themuslimtimes.info/2013/07/21/allama-iqbal-was-an-ahmadi-muslim-until-a-few-years-before-his-death/
http://blogs.tribune.com.pk/story/30242/what-if-allama-iqbal-had-remained-an-ahmadi/
http://blogs.tribune.com.pk/story/30242/what-if-allama-iqbal-had-remained-an-ahmadi/
http://blogs.tribune.com.pk/story/30242/what-if-allama-iqbal-had-remained-an-ahmadi/
http://www.muslim.org/iqbal/ch6.htm

১২) আবুল আলা মওদুদী

ইনি সুন্নি মতবাদের একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি। কিন্তু শিয়া প্রভাবিত। তৎকালীন এন্ট্রাস পাস এই তুখোড় লেখক ও চিন্তাবিদ কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও পড়ালেখা করেন নাই। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পত্রিকায় কাজ করার সুবাদে উনার উত্থান। আরবী জ্ঞান না থাকলেও বিভিন্ন তাফসিরের উর্দু ব্যাখ্যা দেখে দেখে ও কয়েকজন আলেমের সাহায্যে লিখে ফেলেন তার অনুসারীদের একমাত্র পাঠ্য তাফসির "তাফহিমুল কুরআন/ তরজমায় কুরআন"। কিন্তু বেরলভী পরিবারে বেড়ে উঠা এই ব্যাক্তি চরম ভাবে ছিলেন ইউরোপীয় রেনেসা ও মার্কস ভক্ত। উনি ইসলাম কে চিন্তা করতেন ইউরোপীয় রেনেসা ও কমিউনিস্ট বিল্পবের আদলে। ভাবতেন এর দ্বারাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইসলাম এর বাস্তবায়ন সম্ভব। উনি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতেন ইসলাম মানেই রাজনৈতিক ইসলাম যা শিয়াদের মতবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের না। এই কারনে উনি প্রচন্ড ভাবে শিয়া রাজনৈতিক আন্দোলন ও শিয়া ইমাম খোমেনির ভক্ত ছিলেন। এবং তিনি ও তার অনুসারীরা শিয়া রাস্ট্র ইরান কে ইসলামের আদর্শ মনে করেন।
যুবক মওদুদী

মওদুদী পুত্রঃ জামাত ইসলাম বিরোধী

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাদের ধর্ম - কারামতি বা ইসমাইলি শিয়া'র ইতিহাস


ইতিহাসের পাতায় কারামতি বা কারামাতিয়া (Qarmatians) আন্দোলন একটি চরমপন্থী, উগ্র ও রহস্যময় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত। এরা বর্তমানে ইসমাইলি শিয়া নামে পরিচিত। অবশ্য মিসরে এরা উবাইদিয়া বা ফাতেমি শিয়া নামেও পরিচিত ছিল। এবং উত্তর আফ্রিকা ও মিসর এর অনেক বছর রাজত্ব করে। এমনকি এরা সিরিয়াও দখল করে। যখন সিরিয়া এদের হাতছাড়া হচ্ছিল 'তুর্কিদের বা খাওয়ারিজি'দের হাতে এরা গাদ্দারি করে রোমান খ্রিস্টান জগতকে ক্ষমতা দখলে আহ্বান করে। যার ফলে ১০০ বছরের খ্রিস্টান রাজত্ব চালু আল-কুদস বা জেরুজালেমে। 

বর্তমানে এদের নবী বা ইমামের পদের নাম 'আগা খান'। আগা খান পরিবার বৃটেন থেকে সারা দুনিয়ায় এই ধর্মের লোকদের নেতৃত্ব দেয়। প্রায় সব দেশেই এদের গোপন ও প্রকাশ্য মিশন আছে। এমনকি বাংলাদেশেও অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এর পরিচালনা করে। এরা সেবার নামে মূলত হুইদি ও পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে।

প্রাচীন কারামাতিয়ারা ছিল মূলত বাহরাইন ও পূর্ব আরব কেন্দ্রিক একটি চরমপন্থী শিয়া উপদল, যারা ইসলামের মূলধারার স্তম্ভগুলোকে অস্বীকার করেছিল।

নিচে তাদের মক্কা আক্রমণ, কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ) চুরি এবং ইসমাইলি শিয়াদের সাথে তাদের জটিল সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

১) কারামাতিয়াদের মক্কা আক্রমণ ও হাজরে আসওয়াদ চুরি (৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ)

কারামাতিয়াদের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত এবং ভয়াবহ ঘটনা ছিল পবিত্র মক্কা নগরী আক্রমণ। ৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে (৩১৭ হিজরি) হজের সময় কারামাতিয়াদের শাসক আবু তাহির আল-জান্নাবি-এর নেতৃত্বে এক দল সৈন্য মক্কায় আকস্মিক হামলা চালায়।

আক্রমণের মূল ঘটনাপ্রবাহ:

  • হাজীদের ওপর গণহত্যা: আবু তাহির আল-জান্নাবির বাহিনী মক্কায় প্রবেশ করে সাধারণ হাজী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ৩০,০০০ মুসলমানকে পবিত্র মসজিদুল হারামের ভেতরেই হত্যা করা হয়। কারামাতিয়ারা উপহাস করে কোরআনের আয়াত আওড়াচ্ছিল এবং বলছিল, "আল্লাহ যদি তোমাদের রক্ষা করেন, তবে তাঁর আবাবিল পাখি কোথায়?"

  • জমজম কূপের অবমাননা: নিহত হাজীদের লাশ পবিত্র জমজম কূপে নিক্ষেপ করে কূপের পানিকে দূষিত ও রক্তাক্ত করা হয়েছিল।

  • কাবা শরিফ ভাঙচুর ও হাজরে আসওয়াদ চুরি: তারা কাবার গিলাফ ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে যখন তারা কুড়াল দিয়ে আঘাত করে কাবার দেয়াল থেকে পবিত্র হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) উপড়ে ফেলে।

  • পাথর চুরি ও ২২ বছর নির্বাসন: আবু তাহির হাজরে আসওয়াদটি চুরি করে তাদের রাজধানী 'আল-আহসা' (বর্তমান সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল) নিয়ে যায়। তারা চেয়েছিল কাবার বদলে মানুষ যেন তাদের তৈরি করা মসজিদে হজ করতে আসে। দীর্ঘ ২২ বছর পাথরটি তাদের কাছে বন্দি ছিল। অবশেষে ৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা এবং ফাতেমীয়দের বিপুল অর্থ ও চাপের মুখে তারা পাথরটি ফেরত দিতে বাধ্য হয়, তবে ফেরত দেওয়ার সময় পাথরটি কয়েকটি খণ্ডে ভেঙে গিয়েছিল।

২) ক্রসেডের খ্রিস্টানদের সাহায্য ও জেরুজালেম দখলে সহযোগিতা।

৩) বাগদাদের খলিফাকে শিয়া ধর্ম গ্রহনে বাধ্য করা।

৪) মঙ্গোল বা তাতারদের বাগদাদ দখলে সাহায্য। 

তখন প্রধান মন্ত্রী ছিলেন ইসমাইলি বা শিয়া ধর্মের যিনি পরে হালকু খানের মন্ত্রীও হন। 

৫) মুঘল রাজত্ব দখল

মুঘল নবাবদের সময় মুসলিম ফোউজের মূল অংশ ছিল আফগান সৈন্যরা। এসব শিয়া নবাব সকল জমিদারী ও অধিকাংশ সেনাপতির পদ হিন্দুদের হস্তান্তর করে। এমনকি  সেনা বাহিনীতে হিন্দু সৈন্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়। যার ফলে ইংরেজদের বাংলা দখল অনেক সহজ হয়ে যায়।
এমনকি ইংরেজদের ক্ষমতায় আসার আগেই এরা উড়িশ্যা হিন্দু মারাঠাদের দিয়ে দেয় যখন দেখে এটি তারা দখল করতে পারছে না আগফানদের থেকে।

৬) ভারতে ইংরেজ দখলে সাহায্য

৭) ফরাজি আন্দোলনের বিরোধিতা

৮) সাইদ আহমদের জুহুদের বিরোধিতা

৯) সিপাহী বিদ্রোহে ইংরেজদের পক্ষে লড়াই

১০) ঐক্যবদ্ধ হিন্দুস্তান ও মুসলিম ঐক্য বিরোধী অবস্থান। 

৪০% মুসলিমকে ভারতের হিন্দু ও বার্মার বৌদ্ধদের অধীনে রেখে পাকিস্তান সৃষ্টিতে অবদান। 

১১) পাকিস্তান ভাঙ্গার কারিগর

তিন ব্যক্তির কারণে পাকিস্তান ভেঙ্গে যায়। মুজিব, ভুট্টো ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। এর মাঝে মুজিব আপোষ চাইলেও শিয়া ভুট্টো ও ইসমাইলি ইয়াহিয়া চাইতেন পশ্চিম পাকিস্তানীরাই শুধু পাকিস্তানের মালিক হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ